DRIP IRRIGATION SYSTEM

ড্রিপ ইরিগেশান সিষ্টেম কি?

ড্রিপ ইরিগেশান সিষ্টেম (Drip Irrigation System) আশানুরুপ ফসল উৎপাদনে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় পানি ও পুষ্টি উপাদান যথাযথ মাত্রায় সরবরাহ করার সবচেয়ে কার্যকর পানি সেচ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ফোঁটায়, ফোঁটায় পানি সঠিক পরিমাণে ও সঠিক সময়ে ঠিক গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা হয়, ফলে সময়মতো গাছের জন্য প্রয়োজনীয় পানি ও পুষ্টি উপাদান সঠিকভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হয়, এতে অধিক ফলন নিশ্চিত করা করা যায়। এই পদ্ধতিতে কৃষক অল্প সময়ে সার, শ্রমিকের মজুরি ও বিদ্যুৎ খরচ কমিয়ে অধিক ফসল উৎপাদনে সক্ষম হয়।

Drip Irrigation System

ড্রিপ ইরিগেশান সিষ্টেম কিভাবে কাজ করে?

পাইপ বা ড্রিপ লাইনে সংযুক্ত ছোট ছোট ড্রিপার নজেলের মাধ্যমে পানি সমস্ত বাগানের গাছের গোড়ায়, গোড়ায় সরবরাহ করা হয়। এক-একটি ড্রিপার সম-পরিমাণ পানি ফোঁটায়, ফোঁটায় সমভাবে বাগানের সব গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করার ফলে বাগানের সকল গাছ সমানভাবে বেড়ে উঠার সুযোগ পায় এবং অধিক ফসল উৎপাদনে সক্ষম হয়। 

Buy Drip Irrigation Products

প্রচলিত অন্যান্য সেচ ব্যবস্থার তুলনায় ড্রিপ ইরিগেশান সিষ্টেম কেন অধিক কার্যকরী?

প্রচলিত সেচে অতিরিক্ত পানি ঢালাওভাবে দেয়া হয়, ফলে গাছের আশেপাশের মাটি বেশি ভেজা থাকে এবং সমস্যা সৃষ্টি হয়। গাছ অল্প সময়ে এতো পরিমাণ পানি গ্রহনে সক্ষম নয় বিধায় সূর্যের তাপে দ্রুত গতিতে অতিরিক্ত পানি বাস্পিভবনের মাধ্যমে অপচয় হয়। গাছ পানির মাধ্যমে তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সমূহ গ্রহন করতে ব্যর্থ হয়। ফলে ফসলের ফলন বাধাগ্রস্থ হয় এবং প্রচলিত সেচ ব্যবস্থায় শ্রমিক মজুরি, বিদ্যুৎ খরচ ও সময়ের অপচয় ঘটে।

পক্ষান্তরে ড্রিপ ইরিগেশান (Drip Irrigation) পানি সেচ ব্যবস্থায় নানাবিধ সুবিধা পাওয়া যায়, যেমন:

  • এ পদ্ধতিতে (Drip Irrigation System) পরিকল্পিত ভাবে পানি সরাসরি গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করার ফলে সার ও পুষ্টি উপাদানের অপচয় একেবারে হয়না বললেই চলে।
  • কৃষি কাজে প্রকৃতির অমূল্য সম্পদ, পানি সর্বোচ্চ দক্ষতার সাথে ব্যবহার করা যায়।
  • সেচের পানি বাগানের সব গাছের গোড়ায় সমানহারে পৌঁছানোর জন্য জমি সমতল করার প্রয়োজন হয়না।
  • আঁকা–বাঁকা বা যেকোনো আকৃতির বাগান বা জমিতে সহজেই ও সুষমভাবে সেচ প্রদান করা যায়।
  • পুনরায় ব্যবহারযোগ্য অ–নিরাপদ পানিও এ পদ্ধতিতে সেচ কাজে ব্যবহার করা যায়।
  • পানি সরাসরি গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করার ফলে শিকড়ের চারপাশে সবসময় আর্দ্রতা বজায় থাকে, এর ফলে কোনো কারনে সময়মতো সেচ দেওয়া না হলেও পানির অভাবে গাছের ক্ষতি হয়না।
  • বালু মাটি বা অতি শুষ্ক মাটি হলেও মাটির ধরনের ভিন্নতার কারনে ঘন, ঘন সেচ প্রয়োগের প্রয়োজন হয়না।

অন্যান্য সুবিধা​

Drip Irrigation System in Bangladesh.

  • বাগানের মাটির ক্ষয় একেবারেই কম হয়।
  • জমিতে আগাছা বৃদ্ধি কম হয়।
  • নজেলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ভাবে প্রতিটি গাছের গোড়ার পানির বিতরণ অত্যন্ত সুষমভাবে সম্পন্ন হয়।
  • অন্যান্য সেচ পদ্ধতির তুলনায় শ্রমিকের মজুরি কম ব্যয় হয়।
  • পানি সরবরাহের ভিন্নতা ভাল্ব এবং ড্রিপার দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  • এ পদ্ধতিতে সার প্রয়োগ করার জন্য আলাদা ইউনিট সংযুক্ত করা যায়, যার মাধ্যমে সার প্রয়োগ করা হলে সারের অপচয় একেবারেই হয়না।
  • মাটির পরিমিত আর্দ্রতা বজায় রাখে, যার ফলে ফসলের রোগের ঝুকি হৃাস পায়।
  • সাধারণত অন্যান্য সেচের তুলনায় নিম্নচাপে চালিত হয়, তাই শক্তির ব্যয় কম হয়।
  • নির্ধারিত সময়ে অটোমেটিক ভাবে সেচ প্রয়োগের জন্য আলাদা ইউনিট সংযুক্ত করা যায় যাতে      
  • কোনো মানুষের হাতের সাহায্য ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে অটোমেটিক ভাবেই এই সেচ ব্যবস্থা চালু হয়ে যায়।

ড্রিপ ইরিগেশান সিষ্টেম-এর জন্য কি কি উপকরণ ব্যবহার হয়?

Buy Drip Irrigation System Products  

ড্রিপার ও ড্রিপলাইন কয় ধরনের হয়?

ড্রিপার ও ড্রিপলাইন দুই ধরনের হয়ে থাকে:

  • অনলাইন
  • ইনলাইন।

অনলাইন পাইপ (online pipe) বা ড্রিপলাইনে ড্রিলিং-পাঞ্চিং টুলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাপের ছিদ্র করে ৪ মিমি সাইজের কানেক্টার ও ৪/৭ মিমি সাইজের ড্রিপার এক্সটেনশান বা ফিডার পাইপের মাধ্যমে ড্রিপার সংযুক্ত করা হয়। এই পাইপে গাছের দুরত্ব অনুসারে প্রয়োজনমতো নির্দিষ্ট স্থানে ছিদ্র করে ৪ মিমি কানেক্টার ও ৪/৭ মিমি পাইপ ব্যবহার করে  আলাদা ড্রিপার সংযুক্ত করতে হয়। পরবর্তীতে গাছের দুরত্ব অনুযায়ী ৪/৭ মিমি সাইজের ড্রিপার এক্সটেনশান বা ফিডার পাইপের দৈর্ঘ্য কম-বেশি করে ড্রিপারের স্থান পরিবর্তন করে কাছে বা দুরে স্থাপন করা যায়। ড্রিপ ইরিগেশন কিট ক্রয় করতে ভিজিট করুন

পক্ষান্তরে, ইনলাইন (inline pipe) ড্রিপ ইরিগেশান (drip irrigation) পাইপের ভিতরে নির্দিষ্ট দুরত্ব (যেমন: ৩০ সেমি বা ৪০ সেমি) অন্তর-অন্তর ড্রিপার সেট করা থাকে, তাই এই পাইপে আলাদা ছিদ্র করার বা ড্রিপার সংযুক্ত করার প্রয়োজন হয়না। ফসলের ধরন বা প্রজাতি ও গাছ থেকে গাছের দুরত্ব অনুযায়ী ইনলাইন ড্রিপ ইরিগেশান পাইপ (inline drip irrigation pipe) নির্বাচন ও সেটআপ করতে হয়। ইনলাইন ড্রিপ ইরিগেশান (inline drip irrigation) পাইপ সেটআপ করা তুলনামূলক ভাবে সহজ ও কম ঝামেলাপূর্ণ।

উভয় পদ্ধতির ড্রিপ ইরেগেশান পাইপ (drip irrigation pipe) মাটির উপরে বা নীচে স্থাপন করা যায়। ফসল সংগ্রহের পর জমিতে চাষ দেওয়ার প্রয়োজন হলে সম্পূর্ণরপে স্থানান্তর করা যায়, এবং পুনরায় সেটআপ করা যায়। মালচিং পেপারের সাথে সুবিধাজনক ভাবে ব্যবহার করা যায়।  

ড্রিপ ইরিগেশান সিষ্টেম চালাতে পানির পাম্প বা মোটর প্রয়োজন হয় কি না?

সাধারনত (Drip Irrigation System) ড্রিপ ইরিগেশান সিষ্টেম Gravity Feed বা মাধ্যাকর্ষণ বলের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট উচ্চতার উৎস বা পাত্র থেকে কোনো ধরনের মোটর বা পাম্প ছাড়াই পানি পাইপের মাধ্যমে উচু থেকে নিচে প্রবাহিত হয়ে ড্রিপার নজেলের (dripper nozzle) মাধ্যমে সেচ কাজ সম্পন্ন হয়। তবে জমি বা বাগানের পরিমাপ, গাছ ও ড্রিপারের সংখ্যা বেশি হলে পানির পাম্প (water motor) বা মোটর (water pump) প্রয়োজন হতে পারে।

ড্রিপ ইরিগেশান সিষ্টেম সেটআপ করার খরচ কেমন?

বাগান বা জমির পরিমাপ, মোট গাছের সংখ্যা, মোট লাইনের সংখ্যা এবং গাছ থেকে গাছের দুরত্ব ইত্যাদি বিষয়ের উপর ড্রিপ ইরিগেশান পদ্ধতি সেটআপ করার খরচ নির্ভর করে। ড্রিপ ইরিগেশন পদ্ধতি বাংলাদেশে নতুন, এবং এখনও অনেক কৃষকের কাছে পরিচিত বা প্রচলিত হয়নি। তাছাড়াও এই পদ্ধতির খরচ ও অন্যান্য কারণে এটি আমাদের দেশের অভ্যন্তরে এখনো যথেষ্ট চাহিদা সম্পন্ন পণ্য বা সেবা নয়। বাংলাদেশের কোনো স্বনামধন্য কোম্পানি এখনো ড্রিপ ইরিগেশনের জন্য মানসম্মত মালামাল উৎপাদন শুরু করেনি। ফলে ড্রিপ ইরিগেশানের জন্য উপযুক্ত ড্রিপার, পাইপ ফিটিংস, ইত্যাদি মালামাল সমূহের প্রায় শতভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশসহ অনেক দেশে ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম অন্যান্য সেচ ব্যবস্থার তুলনায় বেশি খরচে সেটআপ হয়, সস্তায় নয়।

ড্রিপ ইরিগেশান সিস্টেম (drip irrigation system) সস্তা না হওয়ার অনেক গুলো কারণের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো – সর্বোত্তম পানি সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রে এটির ব্যপক ও বিভিন্নমুখি উপকারিতা। কৃষি কাজে ব্যবহার উপযোগী পানির পরিমিত ব্যবহার ও সংরক্ষনে ড্রিপ ইরিগেশান সিস্টেম যথাযথ কার্যকরী সেচ পদ্ধতি, তাই এটি পরিবেশ বান্ধব। তাছাড়াও সময়, শ্রম ও ব্যয় সাশ্রয়, দীর্ঘ মেয়াদে এর ব্যবহার উপযোগিতা এবং আরো অন্যান্য সুবিধার কারণে সর্বোপরি এটি একটি আকর্ষণীয় ও লাভজনক সেচ পদ্ধতি।

ড্রিপ ইরিগেশান সিষ্টেম সেটআপ (drip irrigation system setup) করার প্রাথমিক খরচ একবারই করতে হয়, এবং এই পদ্ধতি একবার সেটআপ করলে সাধারনত: ১০-১৫ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। তাই এ পদ্ধতির দীর্ঘস্থায়িত্ব, ফসলের অধিকতর ফলন ও নানাবিধ সুফল বিবেচনা করলে এক কথায় বলা যায় এটি একটি টেকসই, সময় ও অর্থ সাশ্রয়ী উন্নত সেচ পদ্ধতি।

Buy Drip Irrigation System Products ​

ড্রিপ ইরিগেশান সিষ্টেম সেটআপ করতে কি ধরনের মালামাল ব্যবহার করা হয়?

ড্রিপ ইরিগেশন সেচ পদ্ধতি বাংলাদেশে নতুন, এবং এখনও দেশের বেশিরভাগ কৃষকের কাছে অপরিচিত ও প্রচলিত নয়। তাছাড়াও এই পদ্ধতির খরচ ও অন্যান্য কারণে এটি আমাদের দেশের অভ্যন্তরে এখনো যথেষ্ট চাহিদা সম্পন্ন পণ্য বা সেবা নয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দেশের স্বনামধন্য কোন কোম্পানীই ড্রিপ (Drip) ইরিগেশানের জন্য উপযুক্ত ও যথাযথ গুণ-মান সম্পন্ন মালামাল (ড্রিপার বা পাইপ ফিটিংস, ইত্যাদি) উৎপাদন শুরু করেনি। ফলে ড্রিপ (drip) ইরিগেশানের জন্য উপযুক্ত ড্রিপার (dripper), পাইপ ফিটিংস, ইত্যাদি মালামাল সমূহের প্রায় শতভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

তাই সঠিক পদ্ধতিতে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী ড্রিপ ইরিগেশান সিস্টেম (drip irrigation system) সেটআপ করতে বিদেশ থেকে আমদানি করা উন্নতমানের ড্রিপার (dripper), পাইপ (pipe), ফিটিংস ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। ড্রিপ ইরিগেশনে উন্নতমানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মালামাল ও ফিটিংস প্রয়োজন। যা কখনো সস্তায় ক্রয় করা যায়না, এবং চিরাচরিত নিয়মে দুনিয়ার কোনো বাজারেই গুণগত মানের পণ্য সস্তায় পাওয়া যায়না।

যেকোন আধুনিক প্রযুক্তির কিছু সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি, নিয়ম, কানুন ও মানদণ্ড থাকে যা আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত। ড্রিপ ইরিগেশন সেটআপে সঠিক পদ্ধতি, নিয়ম ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে মানসম্মত মালামাল নির্বাচন আবশ্যক। তা না হলে এই পদ্ধতির পরিপূর্ণ সুফল লাভ করা সম্ভব হয়না।

পাইপ বা ড্রিপ লাইন (drip pipe), ড্রিপ ইরিগেশান সেচ পদ্ধতির মূল উপাদান। টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী ড্রিপ ইরিগেশান সিষ্টেম সেটআপ করতে হলে উন্নত মানের পাইপ বা ড্রিপ লাইন ব্যবহার করতে হয়। কারন পাইপ বা ড্রিপ লাইনের মাধ্যমে ড্রিপারে পানি প্রবাহিত হয়। পাইপের উপাদান ও মাপ ভুল হলে বেশি চাপে পাইপ বা ড্রিপ লাইন ফেটে যায়, পানি প্রবাহ বাধা পড়ে। তাছাড়াও অধিক তাপে পাইপের অভ্যন্তরে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সেচের পানি বিষাক্ত হয়ে যায়।

Drip Irrigation System Bangladesh

বিভিন্ন উপাদনে তৈরি পাইপের মধ্যে ড্রিপ ইরিগেশানের জন্য LDPE পাইপ সবচেয়ে উপযুক্ত পাইপ, এই পাইপের বিশেষত্ত্ব:

  • প্রিমিয়াম গ্রেড LDPE কাঁচামাল দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি ড্রিপ ইরিগেশন পাইপ যেকোনো পরিবেশে চাপ ও তাপ সহ্য করে।
  • ঝামেলাহীন ভাবে দীর্ঘদিন নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়, অধিক টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী।
  • অত্যধিক তাপে কেমিক্যাল রিয়েকশান হয়ে সেচের পানি বিষাক্ত করেনা যা অন্য সাধারণ পাইপের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
  • অধিকতর ফসল উৎপাদনে সহায়ক ভুমিকা পালন করে থাকে।
  • পাইপের সাথে ড্রিপারফিটিংস মজবুতভাবে সংযুক্ত থাকে, ফলে পানি লিক হয় না এবং সমভাবে প্রবাহ বজায় থাকে।
  • উৎপাদকের ঘোষিত পাইপের আকার ও পরিমাপ সঠিক থাকায় জোড়া সব সময় মজবুত, টেকসই এবং সেটআপ সহজ হয়।
  • এই পাইপ সমপরিমাণ পানি সমভাবে সরবরাহ করে, ফলে বাগানের সব গাছের সুষম ও স্বাস্থ্যকর বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়।
  • গুণগতমানের কারণে ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া সহ উন্নত দেশগুলোতে বহু বছর ধরে একই পাইপ ড্রিপ ইরিগেশনে ব্যবহার হয়।
  • বিদেশি সুনামধন্য উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে সরাসরি আমদানিকৃত যা গুণগত মান সম্পন্ন আসল পাইপের নিশ্চয়তা প্রদান করে।

Drip Irrigation System in Bangladesh ​

ড্রিপ ইরিগেশন সেচ পদ্ধতিতে কি ধরনের ড্রিপার ব্যবহার করা হয়?

ড্রিপ ইরিগেশন সেচ (drip irrigation system) পদ্ধতিতে এমন ড্রিপার (dripper) ব্যবহার করা হয় যা:

  • গাছের ঠিক গোড়ায় ফোঁটায়, ফোঁটায় বা ছোট, ছোট বিন্দু আকারে একটা লম্বা সময় ধরে পানি প্রয়োগ করে থাকে।
  • গাছ তার শিকড়ের মাধ্যমে পরিমিত পানি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলো একটা লম্বা সময় ধরে পরিপূর্ণভাবে গ্রহন করার সুযোগ পায়।
  • মাটির পুষ্টি উপাদানের অপচয় রোধ করে স্বাভাবিকের তুলনায় যেকোন ফসলের ৬০-৭০ ভাগ ফলন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
  • গাছের গোড়ায় ও চারপাশে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি জমা করে না, ফলে আগাছা জন্মানোর সুযোগ পায়না ও পানির অপচয় একেবারেই হয়না।
  • পানির পাম্প বা মোটর ছাড়া পরিচালিত হওয়ায় বিদ্যুৎ, ডিজেল বা পেট্রোলের অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই পানি সেচ হয়।

Drip Irrigation System Bangladesh

Similar Posts

  • Weather-Based Irrigation Controller

    Weather-Based Irrigation Controller (আবহাওয়া-নির্ভর সেচ নিয়ন্ত্রণকারী) একটি আধুনিক স্মার্ট সেচ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যা আবহাওয়ার তথ্যের উপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেচ (irrigation) চালু বা বন্ধ করে। Weather-Based Irrigation Controller কীভাবে কাজ করে? এই কন্ট্রোলার আবহাওয়া সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ করে যেমন: বৃষ্টিপাত হয়েছে কি না বাতাসের গতি তাপমাত্রা আর্দ্রতা সূর্যালোকের পরিমাণ মাটি শুকিয়ে গেছে কি না এগুলো ব্যবহার করে সেচ ব্যবস্থাকে এমনভাবে চালায়, যাতে পানি অপচয় না হয় এবং গাছ প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পায়। এটি কোথা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে? Weather-based irrigation controller নিচের যেকোনো এক বা একাধিক উৎস থেকে তথ্য নেয়ঃ স্থানীয় আবহাওয়া স্টেশন (Local Weather Station) ইন্টারনেটভিত্তিক আবহাওয়া ডেটা (Internet-based Weather APIs) নিজস্ব সেন্সর সিস্টেম (On-site Sensors)– বৃষ্টি সেন্সর– তাপমাত্রা সেন্সর– Soil Moisture Sensor কিভাবে এটি কাজ করে? (সংক্ষিপ্ত ধাপ) আবহাওয়া ডেটা বিশ্লেষণ করে (যেমন:…

  • 16mm LDPE Pipe for Drip Irrigation Systems.

    Features and Benefits of 16mm LDPE Pipe: Drip irrigation has revolutionized modern farming by offering an efficient, water-saving solution tailored to the precise needs of crops. At the heart of many drip irrigation setups lies the 16mm LDPE (Low-Density Polyethylene) pipe, a versatile and durable component essential for optimal water delivery. In this blog post, we will explore the key features and wide-ranging benefits of using 16mm LDPE pipes for drip irrigation — highlighting how they positively impact agriculture productivity and environmental sustainability. What is 16mm LDPE Pipe? The 16mm LDPE pipe is a flexible, lightweight tubing commonly used as the main distribution line or lateral line in drip irrigation systems. Made from low-density polyethylene, this pipe offers excellent resistance to UV rays, chemicals, and…

  • হাইড্রোপনিক্স চাষ পদ্ধতি

    হাইড্রোপনিক্স কী? হাইড্রোপনিক্স (Hydroponics) হলো একটি আধুনিক উদ্যানতাত্ত্বিক চাষ পদ্ধতি, যা হাইড্রোকালচারের একটি উপশ্রেণি। এই পদ্ধতিতে মাটি ছাড়া কৃত্রিম পরিবেশে পানি-ভিত্তিক পুষ্টিসমৃদ্ধ দ্রবণের মাধ্যমে ফসল, সবজি বা ঔষধি গাছ চাষ করা হয়। এখানে গাছের শিকড় সরাসরি পুষ্টিসমৃদ্ধ তরলে ডুবে থাকে অথবা পার্লাইট, গ্র্যাভেল (পাথরের দানা) বা অন্য কোনো নিরপেক্ষ মিডিয়ার মাধ্যমে শিকড়কে স্থিরভাবে ধরে রাখা হয়। এই পদ্ধতিতে গাছের শিকড় সহজে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে, ফলে গাছ দ্রুত বড় হয়, রোগবালাই কম হয় এবং ফসল উৎপাদন বেড়ে যায়। এক কথায়, হাইড্রোপনিক্স চাষ পদ্ধতি হলো মাটি ছাড়াই পানির মাধ্যমে উদ্ভিদ চাষের একটি আধুনিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে উদ্ভিদের শিকড়ে সরাসরি পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দেওয়া হয়। এতে ফসল দ্রুত বৃদ্ধি পায়, রোগ-বালাই কম হয় এবং কম জায়গায় বেশি উৎপাদন সম্ভব হয়। হাইড্রোপনিক্স চাষের ধাপসমূহ ১. পরিকল্পনা ও স্থান…

  • সুরক্ষিত পরিবেশে চাষাবাদ

    সুরক্ষিত পরিবেশে চাষাবাদ হলো ফসলের ধরণ ও আঞ্চলিক আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতির উপর নির্ভর করে প্রাকৃতিক বায়ুচলাচল বা কৃত্রিম তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রয়নের মাধ্যমে করা চাষাবাদ। সুরক্ষিত কাঠামো ফসলের নিয়মিত বৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি আকষ্মিক বিরুপ আবহাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব হতে রক্ষা করে। সাধারনত এ ধরনের পরিবেশে শাক-সবজি ও ফুলের চাষ করা লাভজনক। সুরক্ষিত পরিবেশে চাষকৃত ফসলের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, আলোর প্রখরতা, সার, কীটনাশক, ও সেচ প্রদান করা যায় এবং এটি রোগ-নিয়ন্ত্রনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। সুরক্ষিত পরিবেশে চাষাবাদ করে আমরা অধিক মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি বাজার চাহিদা অনুসারে প্রকৃতি ও মৌসুম নির্বিশেষে যেকোন শাক-সবজি ও ফুলের চাষ করা সম্ভব। ভৌগলিক অবস্থান, আবহাওয়ার প্রকৃতি ও ফসল অনুযায়ী অবকাঠামোয় ভিন্নতা রয়েছে। খুব ঠান্ডা অথবা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত পরিবেশে যে সকল ফসলের চাষাবাদ করতে হবে সে সকল ফসলের জন্য পলি-হাউজ বা গ্লাস-হাউজ এবং আকষ্মিক…

  • সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা

    সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা (Fertilizer and Irrigation Management) হলো কৃষিকাজে সঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং সঠিকভাবে সার ও পানি সরবরাহের একটি পরিকল্পিত ও দক্ষ পদ্ধতি, যা ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে। স্বাধীনতার পর কৃষিখাত ছিল বাংলাদেশের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। কৃষিই ছিল মানুষের প্রধান জীবিকা এবং কর্মসংস্থান, যা জাতীয় উৎপাদনের ৬০ শতাংশ নির্ভর করত কৃষির উপর। শিল্পোন্নয়নের ফলে কৃষির অবদান কমে বর্তমানে প্রায় ১২.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তবুও কৃষি এখনো দারিদ্র বিমোচন ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপে কৃষিকে উৎপাদনশীল থাকতে হচ্ছে।বাংলাদেশ বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ দেশ, যেখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ১,২৪০ জন মানুষ বাস করে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলে দেশের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ দ্রুত কমে যাচ্ছে। শিল্প খাত কাঁচামালের জন্য সরাসরি কৃষির উপর নির্ভরশীল। মানুষ…

  • জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ

    জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জে কৃষকের টিকে থাকার কৌশল জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জলবায়ু পরিবর্তন। এটি শুধুমাত্র পরিবেশকেই প্রভাবিত করছে না, বরং কৃষি ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সোজাসুজি কৃষকের জীবনে প্রভাব ফেলছে। তাই কৃষকদের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে বিভিন্ন টেকসই ও কার্যকর কৌশল গ্রহণ করে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ জলবায়ু পরিবর্তন এবং তার প্রভাব জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, খরাপ্রবণতা, তাপমাত্রার উর্ধ্বগতি, অতিবৃষ্টি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং ফসলের উৎপাদনে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে কৃষকদের আয়ের উৎস বিপন্ন হচ্ছে এবং খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। কৃষকের টিকে থাকার কৌশলসমূহ ১. টেকসই কৃষি পদ্ধতি গ্রহণ কৃষকরা অবশ্যই পরিবেশ বান্ধব ও টেকসই কৃষি পদ্ধতি অবলম্বন করবেন, যেমন: মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করার জন্য…